মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গ্রাম পুলিশ এর দায়িত্ব

বর্তমানসময়েইউনিয়নপরিষদগুলোতেনিয়োজিতগ্রামপুলিশবাহিনীরসদস্যরানানাপ্রতিকূলঅবস্থায়দিনাতিপাতকরছেন।এপ্রতিকূলপথচলাএকদিনেরনয়।বছরেরপরবছরএন্যূনতমসুযোগসুবিধানিয়েইতারাদায়িত্বপালনকরছেন।চাকরিজীবনেনাপাওয়ারহতাশাথাকলেওদায়িত্বপালনেরক্ষেত্রেতৃণমূলেকাজকরছেনপ্রায়৪৬হাজারগ্রামপুলিশসদস্য।বর্তমানসময়েজীবনজীবিকায়যেবেতনভাতাতারাপানতাদিয়েসংসারচালানোঅনেককষ্টসাধ্যহয়েপড়ে।তবুওসংসারচালাতেইউনিয়নপরিষদেরকাজশেষকরেরাস্তাঘাটেবেরহলেদেখাযায়অনেকগ্রামপুলিশসদস্যভ্যানগাড়ি, ভাড়ায়চালিতমটরসাইকেলবাবাড়িতেবসেকুটিরশিল্পেরকাজকরেকিছুবাড়তিউপার্জনচেষ্টাকরেন।এমনদৃশ্যঅনেকেরদৃষ্টিএড়াতেপারেনা।প্রয়োজনেরতাগিতেইতাদেরবাড়তিকাজকরতেহয়।ইউনিয়নপরিষদেরকাজশেষকরেতাদেরবাড়তিকিছুনাকরলেচলেনাবলেইকরতেহয়বাড়তিকাজ।গ্রামপুলিশসদস্যরাতাদেরসমস্যাগুলোরকথাপ্রায়ইবলেন।বিশেষকরেবেতনবৃদ্ধি, চাকরিশেষেকিছুআর্থিকসুবিধাপাওয়াসহইত্যাদিবিষয়নিয়ে।বিনিদ্ররজনীহাঁক-ডাকদিয়েচোরডাকাততাড়ানোরএগ্রামপুলিশরাগ্রামগুলোকেনিরাপদরাখারচেষ্টাকরেন।সময়েরব্যবধানেতাদেরকাজেরপরিধিবাড়লেওবাড়েনিতাদেরসুযোগসুবিধা।তারপরেওনানাপ্রতিকূলতায়দায়িত্বপালনেঅবিচলরয়েছেন।বলতেগেলেএখনোএকবিংশশতাব্দীতেতারাদিনরাতসমানতালেজীবনজীবিকারজন্যকাজকরেচলছেনযুগেরপরযুগধরে।কচ্ছপগতিতেতাদেরসুযোগসুবিধাবাড়ারকারণেহিমশিমখেতেহয়পরিবারেরসদস্যদেরকেনিয়েজীবনসংসারচালাতে।এরকমহাজারহাজারগ্রামপুলিশসদস্যরাদারিদ্র্যকেঝেড়েফেলেতারওপরঅর্পিতদায়িত্বপালনেসদাসর্বদাসজাগথাকেন।এগ্রামপুলিশদেরইতিহাসঘেটেদেখাযায়, তৃণমূলেরগ্রামপুলিশপ্রতিষ্ঠারসমৃদ্ধইতিহাসরয়েছে।জমিদারিআমলেচৌকিদার, দফাদার, পাহারাদার, মহল্লাদারপ্রভৃতিহরেকনামেরকিছুমানুষহাড়ভাঙাপরিশ্রমকরেগ্রামীণজনপদেরমানুষগুলোনিরাপত্তায়নিয়োজিতথেকেছেন।১৭০৭সালেশেরশাহ’রশাসনামলথেকেবিচারকার্যসহযোগিতাকরারজন্যমহল্লাদারপদবিতেমূলতবর্তমানসময়েরগ্রামপুলিশেরজন্মহয়।ইতিহাসথেকেআরোজানাযায়, ১৮৭০সালেগ্রামচৌকিদারআইনেরঅধীনেতৎকালে(ইউনিয়নপর্যায়ে) চৌকিদারপঞ্চায়েতগঠনকরাহয়।সেসময়েপঞ্চায়েতবলতেকয়েকটিগ্রামকেবোঝাতো।যাএসময়েস্থানীয়সরকারেরগুরুত্বপূর্ণঅংশইউনিয়নপরিষদেরমতোইছিলো।সেখানেগ্রামেরমানুষেরবিবিধকাজেচৌকিদাররাভূমিকারাখতোনা।এছাড়াওতৎকালীনসময়েচৌকিদারআইনপ্রণয়নেরমাধ্যেমেচৌকিদারপঞ্চায়েতপ্রথাচালুকরেএলাকারসার্বিকআইনশৃংখলারক্ষারজন্যচৌকিদারনিয়োগকরেগ্রামপাহারাদেওয়ারব্যবস্থাকরাহয়।বর্তমানেইউনিয়নপরিষদেরবিভিন্নকাজেসহযোগিতাকরাছাড়াওগ্রামপুলিশবাহিনীরসদস্যকেইউনিয়নপরিষদ, উপজেলাপরিষদপাহারাদেওয়ারকাজকরতেহয়।এখানেইতাদেরকাজশেষনয়।তাদেরকেকর্মরতএলাকারস্থানীয়থানাগুলোতেঅপরাধেরতথ্যপ্রদান, তথ্যউদ্ঘাটন, অপরাধীগ্রেপ্তারেপুলিশকেসহযোগিতা, ইউনয়নপরিষদেরনিরাপত্তা, জন্ম-মৃত্যুরখবররাখা, বিভিন্নত্রাণসামগ্রীবিতরণ, ইউনিয়নপরিষদেররাজস্বআদায়েসহায়তাকরারমতোঅন্তত৭০ধরনেরকাজকরতেহয়।কাজকরলেকাজেরপারিশ্রমিকমিলবে- এটাইস্বাভাবিক।কিন্তুগ্রামপুলিশবাহিনীরসদস্যরাতাদেরদাবিপূরণেদাবিকরেযাচ্ছেন।তেমনটিতাদেরজীবনজীবিকায়পরিবর্তনআসেনিতাহাজারোগ্রামপুলিশেরমলিনমুখদেখেবোঝাযায়।

cবর্তমান সময়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নানা প্রতিকূল অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। এ প্রতিকূল পথ চলা একদিনের নয়। বছরের পর বছর এ ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা নিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরি জীবনে না পাওয়ার হতাশা থাকলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তৃণমূলে কাজ করছেন প্রায় ৪৬ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য। বর্তমান সময়ে জীবন জীবিকায় যে বেতন ভাতা তারা পান তা দিয়ে সংসার চালানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তবুও সংসার চালাতে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ শেষ করে রাস্তাঘাটে বের হলে দেখা যায় অনেক গ্রাম পুলিশ সদস্য ভ্যানগাড়ি, ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল বা বাড়িতে বসে কুটির শিল্পের কাজ করে কিছু বাড়তি উপার্জন চেষ্টা করেন। এমন দৃশ্য অনেকের দৃষ্টি এড়াতে পারে না। প্রয়োজনের তাগিতেই তাদের বাড়তি কাজ করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কাজ শেষ করে তাদের বাড়তি কিছু না করলে চলে না বলেই করতে হয় বাড়তি কাজ। গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদের সমস্যাগুলোর কথা প্রায়ই বলেন। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি, চাকরি শেষে কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়াসহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। বিনিদ্র রজনী হাঁক-ডাক দিয়ে চোর ডাকাত তাড়ানোর এ গ্রাম পুলিশরা গ্রামগুলোকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন। সময়ের ব্যবধানে তাদের কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি তাদের সুযোগ সুবিধা। তারপরেও নানা প্রতিকূলতায় দায়িত্ব পালনে অবিচল রয়েছেন। বলতে গেলে এখনো একবিংশ শতাব্দীতে তারা দিনরাত সমান তালে জীবন জীবিকার জন্য কাজ করে চলছেন যুগের পর যুগ ধরে। কচ্ছপগতিতে তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ার কারণে হিমশিম খেতে হয় পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে জীবনসংসার চালাতে। এ রকম হাজার হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দারিদ্র্যকে ঝেড়ে ফেলে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সদা সর্বদা সজাগ থাকেন। এ গ্রাম পুলিশদের ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, তৃণমূলের গ্রাম পুলিশ প্রতিষ্ঠার সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। জমিদারি আমলে চৌকিদার, দফাদার, পাহারাদার, মহল্লাদার প্রভৃতি হরেক নামের কিছু মানুষ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে গ্রামীণ জনপদের মানুষগুলো নিরাপত্তায় নিয়োজিত থেকেছেন। ১৭০৭ সালে শেরশাহ’র শাসনামল থেকে বিচারকার্য সহযোগিতা করার জন্য মহল্লাদার পদবিতে মূলত বর্তমান সময়ের গ্রাম পুলিশের জন্ম হয়। ইতিহাস থেকে আরো জানা যায়, ১৮৭০ সালে গ্রাম চৌকিদার আইনের অধীনে তৎকালে (ইউনিয়ন পর্যায়ে) চৌকিদার পঞ্চায়েত গঠন করা হয়। সে সময়ে পঞ্চায়েত বলতে কয়েকটি গ্রামকে বোঝাতো। যা এ সময়ে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউনিয়ন পরিষদের মতোই ছিলো। সেখানে গ্রামের মানুষের বিবিধ কাজে চৌকিদাররা ভূমিকা রাখতো না। এ ছাড়াও তৎকালীন সময়ে চৌকিদার আইন প্রণয়নের মাধ্যেমে চৌকিদার পঞ্চায়েত প্রথা চালু করে এলাকার সার্বিক আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য চৌকিদার নিয়োগ করে গ্রাম পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা ছাড়াও গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ পাহারা দেওয়ার কাজ করতে হয়। এখানেই তাদের কাজ শেষ নয়। তাদেরকে কর্মরত এলাকার স্থানীয় থানাগুলোতে অপরাধের তথ্য প্রদান, তথ্য উদ্ঘাটন, অপরাধী গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহযোগিতা, ইউনয়ন পরিষদের নিরাপত্তা, জন্ম-মৃত্যুর খবর রাখা, বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করার মতো অন্তত ৭০ ধরনের কাজ করতে হয়। কাজ করলে কাজের পারিশ্রমিক মিলবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের দাবি পূরণে দাবি করে যাচ্ছেন। তেমনটি তাদের জীবন জীবিকায় পরিবর্তন আসেনি তা হাজারো গ্রাম পুলিশের মলিন মুখ দেখে বোঝা যায়। - See more at: http://www.kholakagojbd.com/details.php?id=21996#sthash.aF0ywSS5.dpuf

ছবি


সংযুক্তি

Moholladar.doc Moholladar.doc


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter